রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

পতিত জমিতে লাল-সবুজে ড্রাগন বাগান

ছবি। কৃষি বার্তা

রাজন হোসেন তৌফিক,মৌলভীবাজার

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩৩ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩৩

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সিরাজনগর চা বাগান। যেখানে একসময় চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি পড়ে থাকত, সেই জমিই এখন চোখ জুড়ানো লাল-সবুজ ড্রাগন ফলের বাগান। মাত্র ২ বছরে বদলে গেছে চিত্র। এই উদ্যোগ শুধু বাগানের আয়ই বাড়ায়নি, পুষ্টি নিশ্চিত করেছে চা শ্রমিকদেরও। চা শিল্পের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ফল চাষের এই মডেল এখন দেশের অন্য চা বাগানের জন্যও অনুকরণীয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজনগর চা বাগানের ১ হেক্টর পতিত জমিতে সারি সারি ড্রাগন গাছ। যতদূর চোখ যায় সবুজ ডালপালা। কোথাও কাঁচা, কোথাও টকটকে লাল পাকা ফল ঝুলছে।

বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প শুরু হয়। থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক - এই তিন জাতের ড্রাগন লাগানো হয়। দ্বিতীয় বছরেই ফলন আসে। এখানে প্রায় ১৪ হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে।

চলতি মৌসুমেই বাগান থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে। মৌসুম শেষে আয় আরও বাড়বে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।

তবে আয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সাফল্য শ্রমিকদের জন্য। বাগানের ড্রাগন ফল বিনামূল্যে পাচ্ছেন চা শ্রমিক ও তাদের পরিবার।

 ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছে। আনন্দের পাশাপাশি পুষ্টিরও যোগান হচ্ছে।

 শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চায়ের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।

সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন,  চা প্লান্টেশনের বাইরের এই পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্যই ড্রাগন বাগান করা হয়েছিল। এখন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। ফলে জৈব পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত।"

ড্রাগন প্রকল্পের ম্যানেজার খান মো: আল মিকাত বলেন,  নান্দনিক এই বাগানে রয়েছে টাটকা ও সুস্বাদু ড্রাগন। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।


কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জসীম উদ্দিন বলেন,  চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত আয় হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের পুষ্টি নিশ্চিত হচ্ছে। সিরাজনগর চা বাগানের ড্রাগন বাগান এখন সম্ভাবনার অনন্য দৃষ্টান্ত। দেশের অন্য চা বাগানগুলোও এখান থেকে শিখতে পারে।


চা শিল্প যখন সংকটে, শ্রমিকরা যখন পুষ্টির অভাবে ভোগেন - তখন সিরাজনগরের এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে নতুন পথ। পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে আয়, কর্মসংস্থান ও পুষ্টি - তিনটি একসাথে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামীতে বাগানের আরও পতিত জমিতে ড্রাগনের পাশাপাশি অন্যান্য ফল চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজন হোসেন তৌফিক মৌলভীবাজার 

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর