ভেটেরিনারি পেশার মর্যাদা রক্ষা ও ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে বাকৃবিতে মানববন্ধন
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩৫ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩৫
ভেটেরিনারি পেশার যথাযথ মর্যাদা, পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ এবং তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বিভিএসডব্লিউএ)। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে একই সময়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি। এর অংশ হিসেবে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিভিএসডব্লিউএ-এর আয়োজনে মানববন্ধনে ভেটেরিনারি অনুষদের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, পেশাগত স্বকীয়তা ও ক্যাডার কাঠামোর মর্যাদা রক্ষায় নন-ভেটেরিনারিয়ানদের পদোন্নতি ও প্রশাসনিক দায়িত্বের সুস্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি। তারা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরোধী না হয়ে কেবল পেশাগত মর্যাদা ও যৌক্তিক অধিকার রক্ষায় সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমরা চাই আমাদের সংশ্লিষ্ট যে দপ্তরগুলো আছে তারা আমাদের দাবি পূরনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। আমরা জানি আমাদের দাবিটা খুবই যৌক্তিক। পরবর্তীতে যদি আমাদের যৌক্তিক দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। আমরা চাই সরকার তাদের দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত তা বাস্তবায়ন করুক এবং সে বিষয়ে আমরা সাহায্য করতেও প্রস্তুত। তবে ডিপ্লোমাধারীদের বিষয়গুলো যদি দ্রুত সমাধান করা না হয়, তাহলে আমরা খুব দ্রুতই কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।'
ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী তানভীন ইসলাম লাবণ্য বলেন, 'ভেটেরিনারিয়ানরা হচ্ছে হেলথ অফিসার, কিন্তু সেখানে সহকারী হেলথ অফিসার পদে কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে? আমরা এত কষ্ট করে এত বছর পড়াশোনা করার পর শেষে গিয়ে যদি ডিপ্লোমাধারীদের অধীনে কাজ করতে হয়, তাহলে আমাদের এত বছর কষ্ট করে পড়ার কোনো মানে হয় না। ইন্টার বা সমমানের পড়ালেখা শেষে ডিপ্লোমা করেই তারা ১০ম গ্রেড থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে ৫ম গ্রেড পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়ে যাচ্ছেন। অথচ আমরা ১০ম বা ৯ম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে অবশেষে ওই ডিপ্লোমাধারীদের নির্দেশেই কাজ করতে হবে এটা কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।'
মানববন্ধন থেকে বিভিএসডব্লিউএ-এর সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন সিয়াম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. প্রতিটি উপজেলায় ৪ জন ভেটেরিনারি সার্জনের পদ দ্রুত সৃজন করে নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ অতি দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
২. সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার (৯ম গ্রেড) পদে শুধুমাত্র নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ দিতে হবে।
৩. ক্যাডার কাঠামোর বাইরে নন-ভেটেরিনারিয়ানদের পদোন্নতি দিয়ে নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) ভেটেরিনারিয়ানদের সমকক্ষ বা উচ্চতর পদে পদায়নের কোনো সুযোগ ভবিষ্যতে রাখা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, 'অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার পদটি সৃষ্টির প্রেক্ষিতে আমাদের মনে সংশয় জাগে ডিপ্লোমাধারীদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা কার অধীনে এবং কীভাবে কাজ করবেন। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন অনুযায়ী যেকোনো সিদ্ধান্ত কেবল নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানরাই নিতে পারেন, আর প্যারাভেটরা তাদের অধীনে থেকে শুধু প্রথম চিকিৎসা, টিকাদান বা কৃত্রিম প্রজননের মতো কাজগুলো সম্পাদন করবেন। তাই উপজেলা পর্যায়ে সরাসরি কোনো ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার না থাকা সত্ত্বেও ডিপ্লোমাধারীদের এমন দায়িত্বশীল পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তা ভেটেরিনারিয়ানদের পেশা, জনস্বাস্থ্য এবং প্রাণিকল্যাণের জন্য হুমকি বা এক ধরণের প্রতারণার শামিল।
