ভেটেরিনারি সার্জন নেই ৬ বছর,বিপাকে ৫ শতাধিক খামারি
ছবি। কৃষি বার্তা
রাজন হোসেন তৌফিক,মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৯ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৯
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রায় ছয় বছর ধরে নেই কোনো ভেটেরিনারি সার্জন। প্রধান চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় ভেটেরিনারি চিকিৎসকের অভাবে গবাদিপশুর যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ কৃষক ও খামারিরা। উপজেলার পশুসম্পদ রক্ষা ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনবল সংকটে জর্জরিত হাসপাতাল:
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ভেটেরিনারি সার্জনসহ বেশ কিছু পদে জনবল সংকট রয়েছে। হাসপাতালে মোট ১১টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে ২ জন আবার প্রশিক্ষণ ছুটিতে রয়েছেন। ভেটেরিনারি সার্জন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ড্রেসারসহ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।
শুধু তাই নয়, জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে নেই কোনো জরুরি বিভাগও। ফলে রাত-বিরাতে বা ছুটির দিনে গবাদিপশু অসুস্থ হলে কৃষকরা পড়ছেন চরম বিপাকে। বাধ্য হয়ে উপজেলার অন্তত ৫ শতাধিক খামারি তাদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসার জন্য অনভিজ্ঞ পল্লি ও হাতুড়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এতে অনেক সময় ভুল চিকিৎসায় শতাধিক পশু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
খামারিদের হাহাকার:
উপজেলার পোলট্রি খামারি কাসেম মিয়া ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে কোনো সেবা পাই না। অনেক সময় গৃহপালিত পশু অসুস্থ হয়ে মারা যায় অথচ চিকিৎসার জন্য কাউকে খুঁজে পাই না। সরকারি হাসপাতাল থাকতেও আমাদের হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।
হাঁসের খামারি নাজমুল বলেন, ভেটেরিনারি হাসপাতালে সার্জন না থাকায় হাঁস-মুরগির জন্য সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসার অভাবে হাঁস মুরগি প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে। লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানালেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষক, খামারি ও সাধারণ মানুষের।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মোক্তাদির বিল্লাহ* বলেন, "আমার হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান চিকিৎসক ভেটেরিনারি সার্জন নেই। ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় কিছু চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দ্রুত পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতির মুখে প্রাণিসম্পদ খাত:
রাজনগর উপজেলা কৃষি ও খামার নির্ভর এলাকা। এখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির খামার গড়ে উঠেছে ব্যাপকভাবে। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে খামারিরা পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ভেটেরিনারি সার্জন ও অন্যান্য পদে নিয়োগ না দিলে উপজেলার প্রাণিসম্পদ খাত মুখ থুবড়ে পড়বে।
খামারিদের দাবি, অবিলম্বে শূন্য পদগুলো পূরণ করে রাজনগর ভেটেরিনারি হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর করা হোক। একইসঙ্গে জরুরি বিভাগ চালু করে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
