বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাঁসের প্রাণঘাতী প্লেগ রুখতে বাকৃবির নতুন টিকা

ছবি। কৃষি বার্তা

রিসালাত আলিফ

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৪৫ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৪৫

বাংলাদেশের হাঁস পালন খাতে স্বল্পমূল্যের ও কার্যকর টিকা সরবরাহের লক্ষ্যে স্থানীয় হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে টিকা উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এ গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি গ্যালারিতে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) অর্থায়নে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির (সিএএসআর) সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. শামসাদ জাহান শিরাজী এবং এলডিডিপির চিফ টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রকল্পের সহ-গবেষক ড. মোহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান খান।

কর্মশালায় প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান গবেষণার অগ্রগতি, অর্জন এবং স্থানীয় হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যে কার্যকর টিকা উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, হাঁসের প্লেগ অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হাঁসের মৃত্যুহার ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল অ্যাটেন্যুয়েটেড ভ্যাকসিন তৈরি করা। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) অনুরোধে ইনঅ্যাক্টিভেটেড ও ডিএনএ ভ্যাকসিন নিয়েও গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

গবেষণায় ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিনে আশানুরূপ ফল পাওয়া না গেলেও ডিএনএ ও ওরাল ভ্যাকসিনে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বর্তমানে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে।

অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টিকাটি খামারিদের হাতে পৌঁছাতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি ৯০ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। পরবর্তী সময়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে খামারিদের কাছে টিকাটি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে দেশের হাঁস পালন খাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম বলেন, ভাইরাসজনিত হাঁসের প্লেগ রোগে আক্রান্ত হাঁসকে চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁচানো কঠিন। তাই এ রোগ প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিধি বিভাগের ভ্যাকসিন গবেষণার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যের টিকা উদ্ভাবনের এ গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।

ভবিষ্যতে ভাইরাসের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে টিকাটির কার্যকারিতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গবেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে স্থানীয় ভাইরাসভিত্তিক স্বল্পমূল্যের এ টিকা দেশের হাঁস খামারিদের জন্য কার্যকর ও সাশ্রয়ী প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর