মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

এক মৌসুমেই লাখ টাকার আয় মিজানুরের

সংগৃহীত ছবি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০১:৩৩ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ | ০১:৩৩

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট গ্রামের যুবক মিজানুর রহমান (৩২) সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। জৈব ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প জমিতে লাভজনক সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় কৃষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করেছেন।

রোববার মিজানুর রহমানের লাউ ক্ষেত পরিদর্শন করেন দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি মাঠ পর্যায়ে লাউ চাষের সফলতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এই লাউ ইতোমধ্যে বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তার এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।”

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের জৈব সার ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার কয়েকটি গ্রামের যুবক কৃষক উন্নত জাতের সুপার গ্রিন লাউ চাষে যুক্ত হয়ে সফলতা অর্জন করেছেন।

খানসামা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিব আহমেদ খাঁন জানান, “দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে ও আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করছে।”

মিজানুর রহমান প্রথমে ২১ শতক জমিতে জৈব সার ব্যবহার করে একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করেন। সেখানে সুপার গ্রিন জাতের লাউয়ের চাষ করে আশাতীত ফলন পান। পরে তিনি বৃহত্তর পরিসরে এই জাতের লাউ চাষে এগিয়ে আসেন।

মিজানুর রহমান জানান, “চলতি মৌসুমে তিনি এক একর অর্থাৎ ১০০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২১ শতক জমিতে জৈব পদ্ধতিতে প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “লাউ চাষে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে বীজ, মাচা তৈরি, জৈব সার, শ্রমিক ও পরিচর্যা খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

বর্তমান মৌসুমে ক্ষেত থেকে লাউ বিক্রি করে তিনি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য আয় করেছেন। তার দাবি, ক্ষেতে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ লাউ রয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আয় আরও বাড়বে।

তিনি জানান, “তার ক্ষেত থেকে লাউ বাজারে বিক্রি করে তিনি প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। জমিতে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ লাউ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট ফলন বিক্রি করে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।”

চাষাবাদে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করেই সফলতা এসেছে বলে জানান মিজানুর।

মিজানুর বলেন, “স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব বালাই নাশক পোকা দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। সুপার গ্রিন জাতের লাউ দেখতে আকর্ষণীয়, আকারে বড় এবং ওজন বেশি হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।”

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ লাউয়ের তুলনায় সুপার গ্রিন জাতের লাউ ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করছে। ক্ষেত থেকেই পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা লাউ সংগ্রহ করায় পরিবহন ব্যয় কমছে এবং কৃষকও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক ফজলে হক জানান, “মিজানুরের এই সাফল্য দেখে অনেকেই আগামী মৌসুমে সুপার গ্রিন জাতের লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”

অন্যদিকে কৃষক আফতাব হোসেন বলেন, “অল্প খরচে যদি এত লাভ হয়, তাহলে লাউ চাষ অবশ্যই লাভজনক। আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এই জাতের লাউ আগামী মৌসুমে চাষ করবো।”

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং জৈব পদ্ধতির সমন্বয়ে অল্প জমিতেও কৃষকরা উল্লেখযোগ্য লাভ করতে পারেন।

খানসামা উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা সবুজ আহমেদ বাসসকে বলেন, “দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া, লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

পরিকল্পিত চাষাবাদ, জৈব পদ্ধতির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তা পেলে অল্প জমিতে কৃষকরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন।”

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বাসসকে বলেন, “সুপার গ্রিন জাতের লাউ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। রোগ-বালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় এই জাতের লাউ চাষে ঝুঁকি নেই বলে চলে।

সঠিক সময়ে এই উন্নত জাতের লাউ চাষ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে অল্প জমিতে ভালো লাভবান হওয়া সম্ভব।”

তিনি বলেন, “টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের জৈব ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করা হচ্ছে।

জৈব সবজি উৎপাদন প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকরা হাতে-কলমে শিখছেন, কিভাবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত সবজি উৎপাদন করা যায়।

এ ধরনের বিষমুক্ত জৈব সার ব্যবহারে লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষে কৃষকরা এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।”

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর