নানা আয়োজনে বাকৃবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২১ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২১
দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দিয়ে এ দিবস উদযাপন শুরু হয়। পরে সকাল ১১টায় প্রশাসন ভবন সংলগ্ন করিডোর থেকে বিজয় র্যালি বের হয়। র্যালি শেষে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। এছাড়াও উপস্থিত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্র নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীতে জুলাই বিপ্লবের সূচনা, স্বৈরাচারী শাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার প্রতিবাদ, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও জুলাই শহীদদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত, জাতীয় সংহতি ও অগ্রগতি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ কে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া ।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হওয়া তিন শহিদের পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণ করেন ফুলবাড়িয়ার শহিদ হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার আঁখি, ফুলপুরের শহিদ সাইফুল ইসলামের স্ত্রী এবং পিতা তৈয়ব আলী, ত্রিশালের শহিদ আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তানজিনা আক্তার। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ৪টা ক্যাটাগরিতে ৩ জন করে মোট ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।
আলোচনা সভায় ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, 'আজ ৫ই আগস্ট। এটাকে আমরা জুলাই ৩৬ বলে থাকি। এই দিনে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই দ্বিতীয় স্বাধীনতার আজকে দ্বিতীয় বার্ষিকী। দ্বিতীয় স্বাধীনতা সহজে আসেনি। অনেক ত্যাগ,সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে আমরা আজকের দিনটি পেয়েছি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আন্দোলনে যার যতটুকু অবদান রয়েছে, সবার অবদানকে স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। কোনো রকম লুকায়িত বা গুপ্তভাবে থেকে এদেশের মানুষকে ভুলানো যাবে না।
তিনি আরও বলেন, এ জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে স্কুল-কলেজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে অন্যায়, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল বলেই। বাংলাদেশ যতদিন টিকে থাকবে, এরকম অন্যায়, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে এই জাতি সবসময় তার জীবন উৎসর্গ করে এই ভূখণ্ডের সার্বভৌম এবং স্বাধীন রাখতে এবং সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে সচেষ্ট থাকবে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফার উপর পূর্ণ আস্থা রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, সকল শহীদদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং যুদ্ধাহত যারা আছেন তাদের প্রতি সহমর্মিতা। সাধ্য অনুযায়ী যখন যা সুযোগ আসবে আমরা তা নিয়ে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবো।
তিনি আরও বলেন, আপনারা সবার আগে বাংলাদেশের স্লোগানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে জনাব তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করুন। গঠনমূলক সমালোচনা করুন, বিশৃঙ্খলা পরিহার করুন। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা নিয়েছি। আপনাদের পাশে আমরা আছি। আমি আপনাদের পাশে থেকে জনাব তারেক রহমানের সেই ৩১ দফাকে বাস্তবায়ন করতে চাই।
