শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

প্রতি বছর ডোবে, প্রতি বছর প্রতিশ্রুতি, এবার স্থায়ী সমাধান চায় কৃষক

ছবি। কৃষি বার্তা

রাজন হোসেন তৌফিক,মৌলভীবাজার

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২১:২৩ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২১:২৩

মনু সেচ প্রকল্পের ত্রুটিপূর্ণ নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজারের রাজনগর ও কাউয়াদীঘি হাওর পাড়ের হেক্টর হেক্টর আমন ফসলের জমি। পানিতে ডুবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম ফসল। ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা কৃষকরা বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার শহরে বিক্ষোভ এবং মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

কাউয়াদীঘি হাওর পাড়ের রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আমন ধানের চারা রোপণ করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু মনু সেচ প্রকল্পের নিষ্কাশন খাল-ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠ এখন পানিতে থইথই। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা কোমর সমান। ডুবে গেছে চারা। কীটনাশক ও সারের টাকা জলে গেছে বলে হতাশ কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে মিছিল নিয়ে শহরে আসেন কৃষকরা। "মনু প্রকল্পের জলাবদ্ধতা মানি না, আমাদের ফসল বাঁচাওস্থায়ী সমাধান চাই, স্লোগানে স্লোগানে তারা মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন।

বিক্ষোভকারী কৃষক আব্দুল মালিক বলেন, 
প্রতি বছরই মনু প্রকল্পের কারণে আমাদের জমি তলিয়ে যায়। এইবারও ১০ বিঘা জমির ধান শেষ। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। এখন পথে বসার অবস্থা।

আরেক কৃষক রহিম বলেন,
সরকারকে বারবার বলেছি ড্রেন-খাল কাটতে। কেউ কথা শোনে না। পানিতে ডুবে ফসল নষ্ট হলে আমরা খাব কি।

কৃষকদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসনের একজন প্রতিনিধি। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টি বেশি হওয়ায় সাময়িক জলাবদ্ধতা হয়েছে। দ্রুত পাম্প বসিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে।

কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। মনু প্রকল্প যেন কৃষকের জন্য অভিশাপ না হয়ে আশীর্বাদ হয় - সেই দাবিই এখন কাউয়াদীঘি পাড়ের কৃষকের।

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর