ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালো ধান চাষে নতুন সম্ভাবনা
সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৪২ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৪২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে কালো ধান বা ব্ল্যাক রাইস। জেলার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক সায়মন মোল্লা দুই বিঘা জমিতে এ ধানের চাষ শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ ধানক্ষেতের মাঝে কালচে রঙের শীষ বাতাসে দুলছে। প্রচলিত সোনালি ধানের পাশাপাশি নতুন জাতের এ ধান এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কালো ধান চাষের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক সায়মন।
কৃষক সায়মন মোল্লা বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে দুই বিঘা জমিতে কালো ধান চাষ করেছেন তিনি। ফলন ভালো হলে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এ ধানের আবাদ করবেন। ব্যতিক্রমী এই ধানের চাষ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। পরীক্ষামূলক আবাদ সফল হলে এলাকার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কালো চাল বা ব্ল্যাক রাইস বিশেষ এক ধরনের ধান। এর চালের রং গাঢ় বেগুনি থেকে কালো হয়ে থাকে। এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া এতে খাদ্য-আঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। কালো চাল দিয়ে ভাত, পায়েস, খিচুড়ি ও পিঠাসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো চালে অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এতে খাদ্য-আঁশও রয়েছে। খাদ্য-আঁশসমৃদ্ধ খাবার হজমে সহায়তা করে। তবে কালো চালের নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
কালো চালে আমিষ, ভিটামিন, জিংক ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। এ চালের দাম সাধারণ চালের তুলনায় বেশি। বাজারে কালো চালের দাম প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
জানা গেছে, দেশের কুমিল্লা, নওগাঁ, চট্টগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলায় পাঁচ থেকে সাত প্রজাতির কালো ধানের চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর এ ধানের আবাদি জমির পরিমাণও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কৃষক সায়মন মোল্লা জানান, ছোটবেলা থেকেই ধান চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহ। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান আবাদ করছেন তিনি। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখে ব্ল্যাক রাইস চাষ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর এ ধান চাষে আগ্রহী হন।
তিনি বলেন, এ মৌসুমে বীজ সংগ্রহ করেছেন। প্রতি কেজি বীজের দাম ৫০০ টাকা। এরপর বীজতলা তৈরি, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করছেন। বর্তমানে জমিতে ধানের শীষ বের হয়েছে।
সায়মন মোল্লা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। পরীক্ষামূলক আবাদে ভালো ফলন হলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এ ধানের চাষ করবেন।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ রানা বলেন, ব্ল্যাক রাইস পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি বিশেষ জাতের ধান। উপজেলায় প্রচলিত মৌসুমি ধান চাষের পাশাপাশি সীমিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধানের আবাদ করা হয়েছে। ফলন ভালো করতে কৃষক সায়মন মোল্লাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
