বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, ১০ শতক জমিতে সফল তরুণ তাওহিদ

ছবি । কৃষি বার্তা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:১২ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:১৩

ফেসবুক ও ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদুল ইসলাম তাওহিদ। সেই আগ্রহ থেকেই দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার নলেয়া গ্রামে মাত্র ১০ শতক জমিতে গড়ে তুলেছেন আঙুরের বাগান। বাগানের ১৮৫টি গাছেই ধরেছে থোকায় থোকায় আঙুর। ফলন দেখে আশাবাদী এই তরুণ এখন বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

স্থানীয় মাটিতে আঙুর চাষের সম্ভাবনা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় থাকলেও তাওহিদ নিজের চেষ্টায় সেই ধারণা বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর বাগানে আঙুর ধরার খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষ।

আঙুর চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ার পর ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের আঙুর বাগানের ভিডিও দেখতে শুরু করেন তাওহিদ। সেখান থেকে গাছের পরিচর্যা, মাচা তৈরি, ডাল ছাঁটাই, সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেন।

তবে শুরুটা সহজ ছিল না। নতুন ফসল হওয়ায় তাঁকে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা ও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাগানের উন্নতি করেন। বর্তমানে গাছগুলোতে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। অনেক গাছের আঙুর পরিপক্বও হয়েছে।

তাওহিদ বলেন, “ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের আঙুর চাষের ভিডিও দেখে আমার আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথমে মনে হয়েছিল, আমাদের এলাকার মাটিতে হয়তো ভালো ফলন হবে না। পরে নিজেই চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিই। নিয়মিত পরিচর্যা ও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এখন গাছে ভালো ফলন পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে।”

মাত্র ১০ শতক জমিতে ১৮৫টি আঙুর গাছের এমন ফলন স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। অনেকেই বাগান দেখতে এসে আঙুর চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইছেন। তাওহিদের এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও বিকল্প ফল চাষে আগ্রহী করে তুলতে পারে।

তবে বাগান থেকে প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে উৎপাদনের পরিমাণ, ফলের গুণগত মান, বাজারদর, পরিচর্যা ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করতে পারলে ভবিষ্যতে তাঁর সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ফল ও ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাওহিদের আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।

তিনি জানান, আঙুর চাষে মাটি, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, পানি নিষ্কাশন, সার ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাওহিদকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শেখা জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তাওহিদের এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে, আগ্রহ, অধ্যবসায় ও সঠিক পরিচর্যার সমন্বয়ে প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন কৃষি উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এখন তাঁর লক্ষ্য বাগানের উৎপাদন ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করা।

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর