বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজারে শখের বাগানে ৫০ জাতের আম

ছবি। কৃষি বার্তা

রাজন হোসেন তৌফিক,মৌলভীবাজার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ১৪:৫৫ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ | ১৪:৫৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সারিয়া গ্রামের এক পাহাড়ি ঢালে গড়ে উঠেছে চোখজুড়ানো ফলের বাগান। শুধু আমই আছে ৫০ জাতের। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০০টির বেশি জাতের ফলের সংগ্রহশালায় রূপ নিয়েছে দুই একরের এই বাগান।

এই কাজ নীরবে করে দেখিয়েছেন স্থানীয় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৭ সালে বাড়ির পাশের ঢালে কয়েকটি আমের চারা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

বাগানে গাছের ডালে ডালে ঝুলছে নামের ট্যাগ। এক পাশে আঙুরের সারি, অন্য পাশে স্ট্রবেরির খেত। লংগান, ড্রাগন, সালাক ফলের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পিচগাছ।

রেজাউল করিম  বলেন, ‘শখ থেকেই আমের চারা লাগানো শুরু করেছিলাম। যখন গাছে ভালো ফলন এল, তখন অন্য জাতের ফল ফলানোর আগ্রহ জাগে।’ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেননি তিনি।

আমের প্রথম ফলন পেয়ে কৌতূহল বাড়ে তার। এরপর বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিরল প্রজাতির ফলের চারা সংগ্রহ শুরু করেন। বিদেশ থেকে সরাসরি চারা আনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করেছেন বলে জানান।

তার বাগানে আমের ৫০টি জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, সূর্যডিম, কাটিমন, কিউজাই, ব্রুনেই কিং, হাঁড়িভাঙা, আম্রপালি, গৌড়মতি, ব্যানানা ও সীতভোগ। 

১০ জাতের মালটা ও কমলার মধ্যে আছে কারা কারা কমলা, ওয়াশিংটন নাভেল, সাউথ আফ্রিকান হাল্লাম মালটা ও সিলেটি কমলা।

এছাড়া আছে ডালিম, পার্সিমন, আপেল, রামবুটান, ব্ল্যাকবেরি, টার্কিশ মালবেরি, কাজুবাদাম, ব্রাজিলিয়ান পেয়ারা, হানি কুমকোয়াট।

বাগানের দুটি ফল বিশেষ মনোযোগ কাড়ে - হানি কাপোর্ড’ ও ‘চুপাচোপা’। রেজাউল সরাসরি ইন্দোনেশিয়া থেকে এনেছেন। হানি কাপোর্ড দেখতে লিচুর মতো, পাকলে জেলির মতো হয়। চুপাচোপা মিষ্টি স্বাদের জন্য সমাদৃত। বাংলাদেশে এই দুটি ফল সচরাচর দেখা যায় না।

ফলের পাশাপাশি বিট, চাইনিজ গাজর, কালো টমেটো, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম ও কয়েক জাতের মরিচ চাষ করেন তিনি।

বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রেজাউলের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিছু আমের জাত বেশ ভালো ফলন দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এ জে লাভলু বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন ফলের বাগান দেখিনি। তিনি যে যত্ন ও ধৈর্য নিয়ে এটি গড়ে তুলেছেন, তা অনুকরণীয়।

রেজাউল জানান, এখনই বাণিজ্যিক চাষের পরিকল্পনা নেই। মৌলভীবাজারের মাটি ও জলবায়ুতে কোন বিদেশি জাত ভালো ফলন দেবে, তা যাচাই করছেন। প্রতিবছরই নতুন নতুন ফল আসছে। ফলন ভালো হলে পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করব।

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর