ধান চাষে মিথেন নিঃসরণ কমাতে বাকৃবি-জাপানের যৌথ গবেষণা
ধান চাষে মিথেন নিঃসরণ
রিসালাত আলিফ
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:১৫ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:২০
ধান চাষে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কমানো, সেচের পানির সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এজিআই-সিএলই (AJI-CLE Co., Ltd.)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) জাইকা-সমর্থিত স্যানরাইস (SANRICE) প্রকল্প।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
যৌথ গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো স্যানরাইস প্রকল্পের উদ্ভাবিত ‘3F4D+MD’ সেচপদ্ধতি ধান চাষে মিথেন নিঃসরণ কতটা কমাতে পারে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা। পাশাপাশি সেচের পানির ব্যবহার কমানো, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রযুক্তিটির সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করা হবে।
‘3F4D+MD’ একটি পর্যায়ক্রমিক সেচপ্রযুক্তি। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানক্ষেতে দীর্ঘ সময় পানি জমিয়ে রাখার পরিবর্তে এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট বিরতিতে সেচ দেওয়া হয়। গবেষণায় ইতোমধ্যে ধানের ফলন অক্ষুণ্ণ রেখে সেচের পানির ব্যবহার কমানো এবং ধানের দানায় আর্সেনিকের পরিমাণ হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা গেছে।
২০২২ সাল থেকে জাপান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি (JST) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA)-এর সহায়তায় স্যানরাইস প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রকল্পটির গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বাকৃবির পরীক্ষামূলক গবেষণা মাঠ ও যশোর জেলার কৃষকদের জমিতে ‘3F4D+MD’ সেচপদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ধানের উৎপাদন বজায় রেখে সেচের পানির ব্যবহার ও ধানের দানায় আর্সেনিকের উপস্থিতি কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধান চাষে মিথেন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে এ সেচপদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাইয়ে যৌথ গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে পানির সাশ্রয় ও আর্সেনিকের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রযুক্তিটির প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
গবেষণার ফলাফল ইতিবাচক হলে ধান উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব সেচপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষিতে পানির দক্ষ ব্যবহার, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও জাপানের গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
