দিনাজপুরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা
সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০২ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০২
দিনাজপুরে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারজাত করে ভালো দাম পাওয়ার আশায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন তাঁরা।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিসুজ্জামান গতকাল বুধবার বলেন, দিনাজপুরকে দেশের শস্যভাণ্ডার বলা হয়। জেলার সব উপজেলাতেই বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। চলতি বছর সদর উপজেলাসহ জেলার সব উপজেলায় কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করছেন।
তিনি বলেন, শীতের শুরুতে আগাম জাতের সবজি বাজারজাত করতে পারলে কৃষকরা তুলনামূলক ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন। ইতোমধ্যে বাজারে শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে এবং ভালো দামেও বিক্রি হচ্ছে।
আনিসুজ্জামান আরও বলেন, সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ে। তখন বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না। অন্যদিকে, বর্ষার শেষ দিকে কার্তিক মাসের শুরুতে সবজির চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষকরা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সবজি চাষের উপযোগী উঁচু জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর, কর্ণাই, গোলাপগঞ্জ, সুন্দরবন, ফাজিলপুর ও আউলিয়াপুর গ্রামের সবজিক্ষেত ঘুরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের এমন চিত্র দেখা গেছে।
সদর উপজেলার কর্ণাই গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪২) জানান, চলতি বছর তিনি ৬০ শতক জমিতে তিন ভাগে আগাম জাতের সবজি চাষ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁঠালি বেগুন ও টমেটো।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি থেকে সবজি চাষ শুরু করেছেন। এখন ক্ষেতের সবজি অনেকটা বেড়ে উঠেছে। তবে অসময়ে বৃষ্টির আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে জমিতে প্রতি তিন ফুট পরপর নালা তৈরি করেছেন, যাতে বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশন হতে পারে। এতে সবজি বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেত থেকে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি এড়াতে নিয়মিত পরিচর্যা করছেন তিনি।
তিনি আশা করছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর ক্ষেতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো ও মুলা বাজারজাত করতে পারবেন। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসব সবজি বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে বলেও আশা তাঁর।
সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) বলেন, কয়েক বছর ধরে তাঁরা কয়েকজন কৃষক আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। এ পদ্ধতিতে তাঁরা লাভবান হয়েছেন। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে তাঁদের পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচও কমেছে। এবারও কয়েক ধরনের সবজি চাষ করেছেন তিনি। মৌসুমের আগেই সবজি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের কৃষক সহিদ মিয়া (৩৮) এবার ৩২ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে চাষে প্রায় ২১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজারজাত করা পর্যন্ত মোট খরচ প্রায় ২৫ হাজার টাকা হতে পারে। আগামী আট থেকে ১০ দিনের মধ্যে ফুলকপি বাজারে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
সহিদ মিয়া বলেন, ‘গত বছর এই জমিতেই ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছিলাম। এবার ভালো কিছু আশা করছি।’ ফুলকপির পাশাপাশি শিম ও শসাও চাষ করেছেন তিনি। এবার সবজির ফলন ভালো হয়েছে জানিয়ে গত বছরের তুলনায় বেশি লাভের আশা প্রকাশ করেন এই কৃষক।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, আগাম জাতের সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এ পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও রোগবালাই দমনে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর। এ ছাড়া চলতি বছর ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে আরও এগিয়ে যাচ্ছেন।
