বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত মেহেরপুরের কৃষকরা

সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০০

মেহেরপুরে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে কেউ আগাম সবজি চাষ করে বাজারজাত শুরু করেছেন। আবার কেউ জমিতে চারা রোপণ, জমি প্রস্তুত ও রোপণ করা চারার পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতজুড়ে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যায়ক্রমে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। এতে মৌসুমের বিভিন্ন সময়ে সবজি বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হবে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা ও শিমসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। আগাম সবজি চাষের পাশাপাশি শীতের পুরো মৌসুমে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জমি তৈরি ও চারা রোপণে মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও সেচের কাজে কৃষক পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দিনমজুররাও কাজ করছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে শ্রমিকের সংকট, মজুরি বৃদ্ধি ও রাসায়নিক সারের সংকট কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

সরেজমিনে জেলার চকশ্যামনগর, গোভীপুর, বুড়িপোতা, শোলমারি ও কাথুলী এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সবজি চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেউ জমিতে হাল-মই দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ সবজি চাষের জন্য বেড তৈরি করছেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকে বীজ বপন ও চারা রোপণের কাজ করছেন। পাশাপাশি সবজির ক্ষেতে কীটনাশকও প্রয়োগ করতে দেখা গেছে।

জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শাকসবজি চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে আলু, শিম, করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, লালশাক, পুঁইশাক ও পালংশাকসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামের সবজি চাষি সানোয়ার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি তিন বিঘা জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি হিসেবে কপি চাষ করেছেন। এসব সবজি চাষে প্রতি বিঘা জমিতে হাল-মই, চারা রোপণ, বেড তৈরি, জমি নিড়ানি, সেচ, সার ও কীটনাশক বাবদ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

তিনি বলেন, এ বছর বৃষ্টির কারণে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ খরচ প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কমেছে। আগাম শাকসবজি চাষে খরচ কিছুটা কম হয়। তবে বাজারে ভালো দাম পেলে লাভের আশা করছেন তিনি।

মনোহরপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে এবার দুইবার তাঁর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। তৃতীয়বারে তৈরি করা বীজতলার চারা এখন রোপণের উপযোগী হয়েছে। তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ওলকপি চাষ করবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, দিনে রোদ ও রাতে ঠান্ডা—এমন আবহাওয়া আগাম সবজি চাষের জন্য উপযোগী। আগাম ফসল বাজারে তুলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সবজি চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর