ব্যবহার হবে সৌরচালিত সেচপাম্পের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ২২:০৭ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ | ২২:০৭
ঢাকায় ‘নবায়নযোগ্য শক্তি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষির টেকসই রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্মার্ট-সিপ প্লাস’ প্রকল্পের বার্ষিক কর্মশালা। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর গুলশান-২ এর লেক শোর গ্র্যান্ডে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল সৌরচালিত সেচপাম্পের অব্যবহৃত বিদ্যুৎকে কৃষি উৎপাদন, ফসল সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে কাজে লাগানো।
যুক্তরাজ্য গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থা (UKRI)-এর অর্থায়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ পরিচালিত ‘স্মার্ট-সিপ প্লাস: বাংলাদেশে সৌরচালিত সেচপাম্পের উদ্বৃত্ত শক্তির বহুমুখী ব্যবহারে উদ্ভাবনী উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।
সকালে কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের ইন-কান্ট্রি লিড ও বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. এম হাম্মাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সদস্য পরিচালক (ক্ষুদ্রসেচ) ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলী, বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. দিয়া সানু, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলর ও ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন এবং বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। এছাড়াও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির গবেষক দল উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও প্রকল্প প্রধান ড. লিনসি মেলভিল। তিনি জানান, বাংলাদেশের মোট পানির প্রায় ৮৬ শতাংশ সেচকাজে ব্যবহৃত হয় এবং এর ৭০ শতাংশ ধানচাষে ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে কিছু এলাকায় পানির স্তর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। এই সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে ‘স্মার্ট-সিপ প্লাস’ প্রকল্প।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৬ লাখ সেচপাম্প ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ডিজেলচালিত। পরিবেশ দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সৌরচালিত সেচপাম্প ব্যবহারে গুরুত্ব বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি সৌরচালিত সেচপাম্প রয়েছে, যার উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫৭ শতাংশ সেচ মৌসুমের বাইরে অব্যবহৃত থাকে।
এই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোল্ড স্টোরেজ, ফসল শুকানো, মাড়াই, ইলেকট্রিক যানবাহন চার্জিং, পানি বিশুদ্ধকরণ এবং কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, পানি, শক্তি ও খাদ্য মানুষের জীবনধারণের প্রধান উপাদান। এসব সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি হবে। তিনি বলেন, সৌরশক্তির বহুমুখী ব্যবহার বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
কর্মশালায় ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি, ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম (DSS), জিআইএসভিত্তিক ম্যাপিং টুলস এবং স্মার্ট এনার্জি সিস্টেমের বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়। পরে পোস্টার উপস্থাপনা, কারিগরি অধিবেশন এবং ‘মডেলিং টু মোমেন্টাম’ শীর্ষক বিজনেস ও পলিসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটি যুক্তরাজ্য সরকারের আয়ারটন ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে অংশীদার হিসেবে রয়েছে বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন, ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পপুলেশন (WSUP) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
