সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃষিবিদ ও কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে ইয়াকফ 

বাকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:৪২ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৪:০২

তরুণ কৃষিবিদদের পুনর্মিলনী এবং কৃষি ক্যাডারের বিভিন্ন সমস্যার পথ খুঁজ‌তে ইয়াং এগ্রিকালচার ক্যাডার অফিসার্স ফোরামের (ইয়াকফ) সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপপরিচালক সালমা আক্তার ও উপপ‌রিচালক মো এনামুল হক, শেরপুর জেলার এটিআই অধ্যক্ষ মো. নুরুজ্জামান, নেত্রকোনার জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. চন্দন কুমার মহাপাত্র, ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. শাখাওয়াত ইকরাম, ময়মন‌সিংহ অঞ্চ‌লের ইয়াক‌ফের সভাপ‌তি সু‌মিত ব‌ণিকসহ ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন কৃষি কর্মকর্তা।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ইয়াকফের সাধারণ সম্পাদক ও উদ্যানতত্ত্ববিদ নাজমুস সায়াদাত বলেন, “এটি শুধু একটি সাধারণ সভা নয়, বরং নবীন কর্মকর্তা ও উচ্চপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের একটি প্ল্যাটফর্ম। এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য দেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা, কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তোলা এবং গঠনমূলক মতামত প্রদান করা। আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো বাহ্যিক নয় বরং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক পরিচয়। কৃষিখাতের অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

ইয়াকফের সভাপতি কৃষিবিদ ইমাজ উদ্দিন বলেন, “কৃষি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় ভূমিকার অভাব থেকেই এ সংগঠনের জন্ম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি কৃষি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পদোন্নতির সমস্যা সমাধান এবং পোস্টিংকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। জিডিপিতে কৃষির অবদান ১১ শতাংশের বেশি হলেও কৃষি কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংগঠনটি কৃষি ক্যাডারের নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত সংকট মোকাবিলায় আমরা বিনামূল্যে কাজ করে যাচ্ছি। তবে পোস্টিং ও পদোন্নতি আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় আমরা অনেক সময় প্রতিবাদ করতে পারি না, স্বাধীনভাবে কাজও করতে পারি না। কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য এ খাতে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমাতে হবে। সর্বোপরি, ইয়াকফের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

নেত্রকোনার জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. চন্দন কুমার মহাপাত্র বলেন, “ইয়াকফ তরুণ কৃষি কর্মকর্তাদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইয়াকফের সুসংগঠিত কার্যক্রমের ফলে আজ জাতীয় পর্যায়েও তারা নিজেদের দাবি তুলে ধরতে সক্ষম হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও সংগঠনটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।


ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান ব‌লেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। এছাড়া দাবি আদায়ের জন্য প্রতিটা গ্রেড ভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তুলা প্রয়োজন । যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন ও গ্রেডভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করে বৈষম্য দূর করা এখন সময়ের দাবি। যারা নতুন তারা নিজেদের শাণিত করতে নিজ উদ্যোগে প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান আহরণ করা আবশ্যক। একতার পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে।


শেরপুর জেলার এটিআই অধ্যক্ষ মো. নুরুজ্জামান ব‌লেন, আমাদের পেশাগত অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জুনিয়র অফিসার যারা আছে, তারা যদি তাদের কার্যক্রম নিয়ে সচেষ্ট হয়ে সিনিয়র অফিসারদের তাগাদা দেয়, তাহলে তাদের যথাযথ অধিকার আদায় করা সহজ হবে। নেতৃত্বে থাকা নতুন প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তারা বিভাগ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিবে। পাশাপাশি নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন থাকবে।

 

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর