রোজেলের যত পুষ্টি কথা
রোজেল ফুল
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:০২ | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:০০
চা ও কফির বিকল্প হিসেবে রোজেল ফুলের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে অনেক দিন ধরেই। পুষ্টিগুণ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ রোজেল ফুল থেকে তৈরি চা ও পানীয় স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রোজেল ফুলের বৃতি বা ক্যালিক্সে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্থোসায়ানিন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও জৈব অ্যাসিড রয়েছে, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো রোজেল ক্যালিক্সে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন সি বিদ্যমান, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
গবেষকদের মতে, রোজেল থেকে তৈরি চা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে ও হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণেও রোজেল ফুলের কার্যকারিতা লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষণার অংশ হিসেবে রোজেল ফুল দিয়ে চা, শরবত, জেলি, জ্যাম, আচার ও বিভিন্ন পানীয় প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্বাদ ও পুষ্টিগুণ-উভয় দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। এসব পণ্য চা ও কফির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
গবেষকরা জানান, দেশের পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলে রোজেল সহজেই চাষ করা সম্ভব। কম খরচে চাষযোগ্য হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারেও রোজেল-ভিত্তিক পানীয় ও খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রোজেল ফুলের বহুমুখী ব্যবহার ও পুষ্টিগুণ বিবেচনায় এনে এটি চা ও পানীয় শিল্পে একটি স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে স্থান করে নিতে পারে। সঠিক গবেষণা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে রোজেল ভবিষ্যতে দেশের কৃষি ও পুষ্টি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
