বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

কৃষিতে বাড়ছে তরুণদের আগ্রহ, ডিপ্লোমা নিয়ে হচ্ছেন উদ্যোক্তা

সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৫৮ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৫৮

একসময় কৃষিশিক্ষাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ধারণা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষিতে যুক্ত হচ্ছেন তরুণেরা। তাঁদের অনেকে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। কেউ কেউ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজ কৃষিশিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রার শুরুতে শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন ছিল। তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষিশিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে হতো। বর্তমানে কুমিল্লার কোটবাড়ি চৌরাস্তা-সংলগ্ন ধনপুরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত এখান থেকে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের অধিকাংশই উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। অন্যরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

কলেজটিতে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি সবজি ও মসলা চাষ, মাছ চাষ এবং গবাদিপশু পালনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ফসলে জৈব সার প্রয়োগ, ফসলের পরিচর্যা এবং পশুপাখির রোগব্যাধি ও পরিচর্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল গ্রামের শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে স্থানীয় একটি স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তিনি বলেন, এ কলেজে এসে পাওয়া অনুপ্রেরণা তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার দুয়ারিয়া গ্রামের মো. এখলাছুর রহমান ২০১০ সালে কলেজটি থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি গবাদিপশু ও মাছের ওষুধ উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, কলেজটির ডিপ্লোমা কোর্সের পাঠ্যবই সমৃদ্ধ। বইগুলো ভালোভাবে পড়াশোনা করলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

কলেজের শিক্ষক অরুণা বেগম, শাফায়েত হোসেন ও ডা. এনাম আহমেদ বলেন, কৃষিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের ২৮টি খাতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মতে, পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে অনেকেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারছেন। বিদেশেও তাঁদের কাজের সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষকেরা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়া এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কলেজের প্রশিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, শ্রেণিকক্ষে তাত্ত্বিক পাঠদানের পাশাপাশি মাঠে হাতে-কলমে সবজি চাষ, মাছ চাষ ও গবাদিপশু পালনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পশুপাখির রোগব্যাধি ও পরিচর্যা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের শেখানো হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম দিকের কৃষিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাঁদের কলেজ একটি। প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরিপ্রার্থী তৈরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে পড়াশোনা করে বেকার রয়েছেন, এমন উদাহরণ খুব কম বলে দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে কলেজটিকে স্নাতক পর্যায়ে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর