সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনদের বরণ, র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকার

ছবি। কৃষি বার্তা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৩ | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৩

নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের হাতছানিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)। ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১, সেমিস্টার-১ এ ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওরিয়েন্টেশন-২০২৬’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওরিয়েন্টেশন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের কথা, যার বাস্তবায়নের ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন,“বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া এবং দক্ষ কৃষিবিদ তৈরি করতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষিভিত্তিক এ দেশের কৃষিকে আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই করে তোলার দায়িত্ব এখন তোমাদের কাঁধে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। কৃষিবিজ্ঞানীদের জন্যও দেশ-বিদেশে শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি চরিত্র গঠন, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।”তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে এবং ক্যাম্পাসের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

র‍্যাগিং প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন,“আমরা শতভাগ র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু প্রথাগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কারিগরি দক্ষতা, সফট স্কিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর একটি।

তিনি বলেন,“বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শিক্ষা খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।”

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন,“প্রতিটি বাবা-মায়ের অনেক বড় স্বপ্ন তোমাদের ঘিরে। জীবন গড়ার এই সময়টিই সবচেয়ে মূল্যবান। অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতি থেকে দূরে থেকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হও।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদার, ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. শহীদুল ইসলাম, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কাওছার হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন অতিথি।

দিনব্যাপী আয়োজন শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আরও পড়ুন

© 2026 Krishi Barta
ফলো করুন কৃষি বার্তা - খবর