সপ্তাহজুড়ে নবীনদের বরণে প্রাণবন্ত সিভাসু ক্যাম্পাস
ছবি। কৃষি বার্তা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৫২ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৫২
তুন মুখ, নতুন স্বপ্ন আর অজানা সম্ভাবনার উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ক্যাম্পাস। ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে সপ্তাহব্যাপী সমারম্ভ (ওরিয়েন্টেশন) কর্মসূচি। ফুলেল শুভেচ্ছা, অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা দিকনির্দেশনায় নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এক আন্তরিক পরিবেশ।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের সমারম্ভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. নূরুল হক, পরিচালক (বহিরাঙ্গন কার্যক্রম) প্রফেসর ড. একেএম সাইফুদ্দিন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, চট্টগ্রামের ডেপুটি চিফ ইপিডেমিওলজিস্ট ডা. জাকিরুল ফরিদ এবং এমএএস অ্যাডিটিভস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রিয়াজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনুষদের ডিন প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রাশেদুল আলম। পরে ভেটেরিনারি পেশার সম্ভাবনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন প্রফেসর ড. একেএম সাইফুদ্দিন।
বায়োটেক শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ আয়োজন
একই দিন দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ওরিয়েন্টেশন। এতে প্রধান অতিথি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন উপাচার্য এবং অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল আমিন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. নূরুল হক বক্তব্য দেন।
জিনোমিক্স অ্যান্ড বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাদ্দাম হোসেন বায়োটেকনোলজি বিষয়ে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের নানা সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অন্যদিকে এনভায়রনমেন্টাল বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক ফাহমিদা বিনতে ওয়ালী নবীনদের সামনে অনুষদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম তুলে ধরেন।
ফুড সায়েন্স ও ফিশারিজ অনুষদেও প্রাণবন্ত আয়োজন
এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের সমারম্ভ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম গবেষণাগারের পরিচালক ড. বরুণ কান্তি সাহা এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শিরীন আক্তার।
একই দিন বিকেলে ফিশারিজ অনুষদের নবীনবরণেও ছিল উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন এবং সিভাসুর সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান। সভাপতিত্ব করেন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ফয়সাল।
‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেটের জন্য নয়’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন,“শুধু একটি সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছ,এমন চিন্তা কখনোই মাথায় রাখা যাবে না। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। সৎ, মানবিক এবং একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে সমাজে অবদান রাখার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শেখার সুযোগ
ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত দুই দিন হাটহাজারীস্থ রিসার্চ অ্যান্ড ফার্ম বেইসড ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় ল্যাব রোটেশন। সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি, পোল্ট্রি ও ফিশ ফার্ম, ফুড সেফটি ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন গবেষণাগার ও আধুনিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ ধরনের হাতে-কলমে পরিচিতিমূলক কার্যক্রম নবীনদের শুধু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে না, বরং তাদের মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনের আগ্রহও বাড়াবে।
