উৎপাদন বাড়লেও খরচের চাপে হিমশিম চা শিল্প
ছবি। কৃষি বার্তা
রাজন হোসেন তৌফিক,মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ২০:২৮ | আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৬:০৮
বাংলাদেশে প্রায় ১৭০ বছর ধরে চা উৎপাদন হলেও খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে শিল্পটি। আধুনিক চাষাবাদ ও অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন বাড়লেও তেল, সার, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন বাগান মালিকরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ১০ কোটি ২ লাখ কেজি, ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৩০ লাখ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আগাম বৃষ্টি হওয়ায় এবার উৎপাদন গত বছরের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চায়ের দামও। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতি কেজি চায়ের গড় নিলাম মূল্য ছিল ১৭১ টাকা ২৪ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০২ টাকা ৪৬ পয়সায়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড়ে ২৪৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
বাগান মালিকদের দাবি, উৎপাদন খরচের ৮০ শতাংশই চলে যায় শ্রমিকের মজুরিতে। চাতলাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, চা উৎপাদন বাড়লেও বাগানগুলোর অবস্থা ভালো না। কারণ খরচ অনেক বেড়ে গেছে। হাতেগোনা কয়েকটি বাগান ছাড়া বেশিরভাগের অবস্থা একই। দাম না বাড়লে এই সমস্যা থেকেই যাবে।
তিনি আরও জানান, অনেক বাগান কোয়ালিটি ধরে রাখতে না পারায় দাম কম পায়। আবার উৎপাদিত চা বিক্রি না হলে দুই দিক থেকেই লোকসান গুনতে হয়।
অন্যদিকে শ্রমিকরা বলছেন, বর্তমান মজুরিতে তাদের সংসার চলে না। ২০২২ সালের আন্দোলনের পর দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা করা হলেও বর্তমানে তারা পাচ্ছেন ১৭৮ টাকার কিছু বেশি।
চা শ্রমিক পূর্ণিমা রেলি বলেন, এই মজুরিতে ডালভাত খেয়ে বেঁচে থাকা দায়। প্রতি বছর মজুরি বাড়ানোর কথা থাকলেও তা করা হয় না। বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা সময়মতো দেওয়া হয় না।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, শিল্পের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো, উৎপাদনও হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ানোর নিয়ম মানা হচ্ছে না।
বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা শিল্পকে কৃষির আওতায় আনা হলে কম সুদে ঋণ পাওয়া যেত। তবে আপাতত চায়ের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প দেখছেন না তারা। চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সুমন সিকদার জানান, এবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী।
১৮৫৪ সালে সিলেটের মালিনীছড়া বাগান দিয়ে দেশে বাণিজ্যিক চা চাষ শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ১৬৮টি চা বাগান রয়েছে।
