বাকৃবিতে ৬৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে এগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের সমাপনী অনুষ্ঠিত
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ১৬:১২ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ | ১৬:১২
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে(বাকৃবি) 'বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড সিজন-৪' এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনে প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল -'তরুণদের সক্রিয়তায়, স্মার্ট কৃষির অগ্রযাত্রা'।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ বিজয়ী ড. এম এ রহিম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো শাহজাহান, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন এবং প্যারাসাইটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিরিন আক্তার। আরও উপস্থিত ছিলেন ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম, মো আবদুস সবুর তরফদার। অনুষ্ঠানে স্পেশাল স্পিকার হিসেবে 'চিত্ত মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের আয়োজনে প্রায় ৬৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫ হাজার ৩৫৭ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাছাইকৃত প্রতিযোগীরা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন, যেখানে ৯টি ক্যাটাগরিতে প্রায় ১৫০ জন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। চূড়ান্ত পর্বের প্রথম ধাপে বাছাইকৃত প্রতিযোগীদের নিয়ে প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেজেন্টেশন শেষে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এই পর্বের শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিযোগীরা বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন এবং অতিথিরা উত্তর দেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে সেরা ১০টি প্রশ্ন বাছাই করে প্রশ্নকর্তাদের বই উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। মোট ৯টি ক্যাটেগরি থেকে ২৭জন এ অনুষ্ঠানে বিজয়ী হয়েছেন। এগ্ৰিকালচার ক্যাটাগরিতে বিজয় হলেন সামিয়া জাহান পূর্নতা,মৌমিতা সরকার উপমা ও নিশাত আরা শারমিন। ফিশারিজ ক্যাটাগরিতে ই.কে.এম আহসান হাবীব সরকার, প্রমি সাহা ও স্বপ্নীল মাহমুদ।
লাইভস্টক প্রোডাকশন ক্যাটাগরিতে নোমান , মো. ওয়ালীউল সাইফুদ্দীন ও সুশীলা পাল শামা। এগ্ৰিবিজনেস অ্যান্ড এগ্ৰিকালচারাল ইকোনমিক্স ক্যাটাগরিতে মাহমুদুর রহমান ফাহিম, ফারহানা ইয়াসমিন এবং অদিতি ঘোষ।এছাড়া অ্যানিম্যাল হেলথ অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটি ক্যাটাগরিতে জাবেদ মজুমদার, মো. হাসিবুল হাসান ও তাশরিফ আহমেদ । ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ক্যাটাগরিতে তিন্না তালুকদার বন্যা, প্রজ্ঞা ভৌমিক এবং নাসরিন সুলতানা মুন্নি। অ্যাগ্ৰিকালচারাল ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে দীন ইসলাম, মো. তাওসিফ বিল্লাহ এবং তাজভী মাহমুদ রাফাত। বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক্স ক্যাটাগরিতে সাব্বির আহমেদ,সুবর্না আক্তার, নীলিমা রাণী দাস রাখী। পুরস্কার হিসেবে তাদেরকে মেডেল, সার্টিফিকেট ও বই দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এগ্রিকালচার, ফিশারিজ, লাইভস্টক প্রডাকশন, এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইকোনোমিকস, ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স, এগ্রিকালচারাল ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি,ক্লাইমেট এন্ড এনভায়রনমেন্ট, অ্যানিম্যাল হেলথ অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটি মোট ৯টি ক্যাটাগরিতে এবারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ২০২৬ বিজয়ী ড. এম এ রহিমকে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি তার অনুভূতি প্রকাশে বলেন, "এই ধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই। কৃষিবিদ হিসেবে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। কৃষকদের নিয়ে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য, কারণ এই কৃষক বেঁচে থাকলেই আমাদের অর্থনীতি বেঁচে থাকবে।"
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন,"শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিটি সেশন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।বর্তমান প্রেক্ষাপট হিসেবে বলতে চাই এআই আমাদেরই তৈরি একটি সহায়ক মাধ্যম মাত্র, যা কখনোই মানুষের মস্তিষ্কের বিকল্প হতে পারে না। এআই হয়তো পাতার রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু সঠিক প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন মানুষের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাশক্তি।তাই প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের বিচারবুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে।বাণিজ্যিক কৃষির প্রসারে প্রযুক্তির গুরুত্ব থাকলেও, এর সাথে মেধার ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। তবেই জীবনধারণের জন্য করা সনাতন কৃষিকে সফলভাবে আধুনিক বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করা সম্ভব।"
