ভাষাশহীদদের স্মরণে বাকৃবিতে দিনভর আয়োজন
মহান ভাষা শহীদ দিবস
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:০৩ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:০৩
যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮ টায় জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির ব্যবস্থাপনায় প্রভাত ফেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখী চত্বর হতে শুরু হয়।এতে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শহীদুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম, রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হুমায়ূন কবিরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো অংশ নেন। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে প্রভাতফেরি শেষ হয়।
শিক্ষক সমিতির ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ স্কুল, কলেজ, ইন্সটিটিউটসমূহের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস,হল ও আবাসিক ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পরে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হল সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শপথ বাক্য পাঠ করান।
মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, 'পাকিস্তানী শাসকরা জানতেন, বাংলা ভাষাভাষী মানুষ কখনও তাদের মাতৃভাষা উর্দু হতে দেবে না। তারা শোষণ ও নিপীড়নের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে দমাতে চেয়েছিলেন কিন্তু তা পারেননি। ৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষিত শ্রেণি থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ সেদিন রাজপথে নেমে এসেছিলেন এবং তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আজ আমরাই বিশ্বের বুকে একমাত্র দেশ যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, আমরা মাতৃভাষায় কথা বললেও শিক্ষা ও দাপ্তরিক কাজের সর্বোচ্চ স্তরে বাংলাকে এখনও কাঙ্ক্ষিত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। তবে আমার বিশ্বাস ২০২৬ সালের সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত গণতান্ত্রিক সরকার সর্বস্তরে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক পর্যায়ে বাংলা ভাষা প্রচলনে সচেষ্ট হবেন।'
পরবর্তীতে দুপুরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগে ‘একুশের চেতনা ও নতুন প্রজন্মের স্বদেশ ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়াজন করা হয়েছে।
