বাম্পার ফলন হলেও লোকসানে আলু চাষী
ফাইল ফটো।
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ১৪:৩৯ | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ১৪:৩৯
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বাজারে দাম কম থাকায় হতাশা বিরাজ করছে চাষিদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে আলুর আবাদ কমে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে ৩ হাজার ৩৩৩ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অতিক্রম করে ৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, রোমানা, এস্টারিজ, ক্যারেজ, ফুপরি ও লাল-সাদা পাকরীসহ বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করেছেন। তবে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিঘা প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
উপজেলার হাটিয়ারী গ্রামের কৃষক হরি মোহন জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করে বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৭৫ মণ ফলন পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ আলু ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।
একই গ্রামের কৃষক মহন্ত বলেন, গত বছরও আলুর দামে ধস নামায় আবাদ কমে গিয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতি হলে চাষিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। আলু উত্তোলনের পর ওই জমিতে বোরো ধান আবাদ করলেও আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় তারা দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় কৃষকদের রক্ষায় সরকারিভাবে আলুর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন এবং ফলনও সন্তোষজনক হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। কৃষকরা যদি এখনই আলু বিক্রি না করে হিমাগারে বা নিজস্ব পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
